নিউজ ১১
কলকাতা/ডেস্ক: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর এক বড়সড় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বিজেপি সরকার। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে পুর নিয়োগ কেলেঙ্কারি— রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনিক কর্তার বিরুদ্ধে চলছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জোরদার অভিযান। এবার সেই দুর্নীতির জালেই নতুন করে উঠে এল দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তের নাম।
প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু বর্তমানে জেল হেফাজতে। তাঁর গ্রেফতারের পর থেকেই তদন্তকারীদের নজর গিয়ে পড়েছে ঘনিষ্ঠ মহলে। সেই তালিকার একেবারে ওপরের দিকেই রয়েছেন নিতাই দত্ত। ইতিমধ্যেই তাঁকে একাধিকবার তলব করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক লেনদেনের ‘মূল অপারেটর’ হিসেবেই কাজ করতেন নিতাই।
তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি, গাড়িচালক, ঝাড়ুদার ও স্বাস্থ্যকর্মী পদে প্রায় ৩২৯ জন অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ করা হয়েছে মোটা টাকার বিনিময়ে। আর সেই গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিল এক শক্তিশালী দুর্নীতির চক্র। অভিযোগ, সেই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ নিতাই দত্ত।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়, একসময় যিনি সকালে পত্রিকা বিলি করতেন, দুপুরে কলেজ স্ট্রিটে বই-খাতা বিক্রি করে সংসার চালাতেন, আজ তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা! কীভাবে এই বিপুল সম্পত্তির মালিক হলেন তিনি? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে তদন্তকারী সংস্থার দফতরে।
মুর্শিদাবাদের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা নিতাই দত্ত ২০০৮ সালের দিকে কলকাতায় আসেন। লেকটাউনের ভাড়া বাড়িতে থেকে সংগ্রামের জীবন শুরু হয় তাঁর। এরপর ধীরে ধীরে শাসকদলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। সেই সময় বিধায়ক ছিলেন সুজিত বসু। সূত্রের দাবি, সেখান থেকেই শুরু হয় নিতাইয়ের উত্থান।
প্রথমে ‘আপ্ত সহায়ক’, তারপর দলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মী— ধীরে ধীরে সুজিত বসুর ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠেন নিতাই। রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে বাড়তে ২০২১ সালের কলকাতা পুরভোটের পর দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে বসানো হয় তাঁকে। আর তারপর থেকেই নাকি বদলে যেতে থাকে তাঁর জীবনযাত্রা, প্রভাব এবং আর্থিক সাম্রাজ্যের বিস্তার।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির টাকার বড় অংশ বিভিন্ন সম্পত্তি, ব্যবসা এবং বেনামি বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিতাই দত্তের একাধিক সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে পারে ইডি বলেও সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সুজিত বসুর গ্রেফতারের পর এবার ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্যের’ আরও একের পর এক পর্দাফাঁস হতে চলেছে। আর সেই তালিকায় নিতাই দত্ত এখন অন্যতম চর্চিত নাম।
একসময়ের পেপারবয়ের এই উত্থান এখন যেন টলিউড বা বলিউডের কোনও রাজনৈতিক থ্রিলারের চিত্রনাট্যকেও হার মানাচ্ছে। তবে সিনেমার পর্দা নয়, এবার বাস্তবের তদন্তেই সামনে আসতে চলেছে বহু অজানা তথ্য— এমনটাই মনে করছে তদন্তকারী মহল।